১. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
১. ঘাসের ওপর রাখা রুমালটা কীসে পরিণত হয়েছিল?
(ক) হাঁস (খ) বেড়াল (গ) খরগোশ (ঘ) ছাগল
উত্তর: (খ) বেড়াল
২. বেড়ালটার মতে তিব্বত যাওয়া কত ঘণ্টার পথ?
(ক) এক ঘণ্টা (খ) দেড় ঘণ্টা (গ) সওয়া ঘণ্টা (ঘ) দুই ঘণ্টা
উত্তর: (গ) সওয়া ঘণ্টা
৩. দাঁড়কাকটি কী দিয়ে শ্লেটে হিসেব লিখছিল?
(ক) চক (খ) শ্লেট পেনসিল (গ) কাঠপেনসিল (ঘ) কালি
উত্তর: (খ) শ্লেট পেনসিল
৪. বুড়োর পা পর্যন্ত দাড়ির রং কেমন ছিল?
(ক) সাদা (খ) কালো (গ) সবুজ (ঘ) লাল
উত্তর: (গ) সবুজ
৫. পুরানো দরজির ফিতে দিয়ে মেপে বুড়ো কথকের সব মাপ কত ইঞ্চি বলেছিল?
(ক) ২০ ইঞ্চি (খ) ২৪ ইঞ্চি (গ) ২৬ ইঞ্চি (ঘ) ৩০ ইঞ্চি
উত্তর: (গ) ২৬ ইঞ্চি
৬. কাক্কেশ্বর কুচকুচের ঠিকানা কত নম্বর গেছোবাজার?
(ক) ৪১ নং (খ) ২৪ নং (গ) ২৬ নং (ঘ) ১২ নং
উত্তর: (ক) ৪১ নং
৭. ‘খাদ্যবিশারদ’ ব্যাকরণ শিং-এর ডিগ্রির নাম কী ছিল?
(ক) M.A. (খ) B.A. (গ) B.Sc. (ঘ) Ph.D.
উত্তর: (খ) B.A.
৮. ঘাসের উপর রাখা রুমালটি তুলতে গিয়ে কথক কী শুনতে পেয়েছিলেন?
(ক) ফ্যাচফ্যাচ
(খ) ম্যাও
(গ) ব্যা-ব্যা
(ঘ) কা-কা
উত্তর: (খ) ম্যাও
৯. ডিম থেকে কী তৈরি হয় বলে বেড়াল উদাহরণ দিয়েছিল?
(ক) মুরগি
(খ) বেড়াল
(গ) প্যাঁকপেঁকে হাঁস
(ঘ) কোলাব্যাং
উত্তর: (গ) প্যাঁকপেঁকে হাঁস
১০. বেড়ালটি কথককে গরম লাগলে কোথায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল?
(ক) দার্জিলিং
(খ) তিব্বত
(গ) কাশ্মীর
(ঘ) রানাঘাট
উত্তর: (খ) তিব্বত
১১. ‘চশমা’ শব্দটির ব্যাখ্যায় বেড়াল ‘মা’ অংশটি কোথা থেকে নিয়েছে?
(ক) চশমা
(খ) চন্দ্রবিন্দু
(গ) বেড়াল
(ঘ) রুমাল
উত্তর: (ঘ) রুমাল
১২. দাঁড়কাকটি কত গুণ দু-এর উত্তর প্রথমে ভুল বলেছিল?
(ক) পাঁচ
(খ) ছয়
(গ) সাত
(ঘ) আট
উত্তর: (গ) সাত
১৩. গাছের ফোকর থেকে নেমে আসা বুড়োটির উচ্চতা কত ছিল?
(ক) এক হাত
(খ) দেড় হাত
(গ) দুই হাত
(ঘ) আড়াই হাত
উত্তর: (খ) দেড় হাত
৮. বুড়োটির কত বছর বয়স হলে বয়স ঘুরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে?
(ক) ৩০ বছর
(খ) ৪০ বছর
(গ) ৫০ বছর
(ঘ) ৬০ বছর
উত্তর: (খ) ৪০ বছর
৯. কাক্কেশ্বর কুচকুচের কার্যালয় কোন পট্টিতে অবস্থিত?
(ক) কাগেয়াপটি
(খ) মেছোবাজার
(গ) গেছোবাজার
(ঘ) হাটখোলা
উত্তর: (ক) কাগেয়াপটি
১০. কাক্কেশ্বর কুচকুচের বিজ্ঞাপনে শিশুদের জন্য দর কত ছিল?
(ক) বিনামূল্যে
(খ) পূর্ণমূল্য
(গ) অর্ধমূল্য (Half Price)
(ঘ) চার আনা
উত্তর: (গ) অর্ধমূল্য (Half Price)
১১. ব্যাকরণ শিং-এর ভাই কী খেয়ে অকালমৃত্যু লাভ করেছিল?
(ক) সন্দেশ
(খ) বার-সোপ
(গ) বোতলের ছিপি
(ঘ) ক্যানভাস ব্যাগ
উত্তর: (খ) বার-সোপ
১২. ন্যাড়ামাথা লোকটির প্রথম গানের পদটি কী ছিল?
(ক) অলিগলি চলি রাম
(খ) নাইনিতালের নতুন আলু
(গ) লাল গানে নীল সুর, হাসি হাসি গন্ধ
(ঘ) মিশিমাখা শিখিপাখা
উত্তর: (গ) লাল গানে নীল সুর, হাসি হাসি গন্ধ
১৩. ‘মানহানির মোকদ্দমা’ বিচারসভায় বিচারক হিসেবে কে বসেছিল?
(ক) কোলাব্যাং
(খ) হুতোমপ্যাঁচা
(গ) শেয়াল
(ঘ) কুমির
উত্তর: (খ) হুতোমপ্যাঁচা
১৪. কুমিরের মতে ‘মান’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) সম্মান
(খ) মানকচু বা কচু
(গ) অপমান
(ঘ) অহংকার
উত্তর: (খ) মানকচু বা কচু
১৫. হিজি বিজ্ বিজ্ সকালে নিজের নাম কী বলত?
(ক) রামতাড়ু
(খ) আলু নারকোল
(গ) তকাই
(ঘ) বিস্কুট
উত্তর: (খ) আলু নারকোল
১৬. হিজি বিজ্ বিজ্-কে সাক্ষী দেওয়ার জন্য কুমির কত টাকা/পয়সা দিয়েছিল?
(ক) দুই আনা
(খ) চার আনা (১৬ পয়সা)
(গ) আট আনা
(ঘ) এক টাকা
উত্তর: (খ) চার আনা (১৬ পয়সা)
১৭. বিচারে ন্যাড়ার শাস্তি হিসেবে কী রায় দেওয়া হয়েছিল?
(ক) এক বছর জেল
(খ) তিনমাস জেল আর সাতদিনের ফাঁসি
(গ) ১০০ টাকা জরিমানা
(ঘ) দ্বীপান্তর
উত্তর: (খ) তিনমাস জেল আর সাতদিনের ফাঁসি
১৮. গল্পটির শেষে কথককে কান ধরে কে জাগিয়ে তুলেছিলেন?
(ক) বড়োমামা
(খ) মেজোমামা
(গ) ছোটোমামা
(ঘ) বাবা
উত্তর: (খ) মেজোমামা
২. অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ – ১ নম্বর)
প্রশ্ন ১: বেড়ালের মতে ‘চশমা’ বানানটি কীভাবে তৈরি হয়েছে?
উত্তর: বেড়ালের অদ্ভুত ব্যাকরণ অনুযায়ী— চন্দ্রবিন্দুর ‘চ’, বেড়ালের তালব্য ‘শ’, এবং রুমালের ‘মা’— এই তিনটি বর্ণ ও অক্ষর মিলে তৈরি হয়েছে ‘চশমা’।
প্রশ্ন ২: গেছোদাদার সঙ্গে দেখা করা অসম্ভব কেন?
উত্তর: গেছোদাদা প্রতিনিয়ত স্থান পরিবর্তন করেন। উলুবেড়ে গেলে তিনি মতিহারি থাকেন, মতিহারি গেলে রামকিষ্টপুর, আর রামকিষ্টপুর গেলে কাশিমবাজার চলে যান; তাই তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়া অসম্ভব।
প্রশ্ন ৩: কাক্কেশ্বর কুচকুচে কোন কোন বিষয় গণনা ও হিসেব করে বলে বিজ্ঞাপনে দাবি করেছিল?
উত্তর: কাক্কেশ্বর বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় হিসাবি ও বেহিসাবি, খুচরা ও পাইকারি সকল প্রকার গণনার কাজ করে থাকে।
প্রশ্ন ৪: কাক্কেশ্বরের ক্যাটালগ পাওয়ার জন্য কী কী বিবরণ পাঠাতে হতো?
উত্তর: জুতার মাপ, গায়ের রং, কান কটকট করে কিনা এবং জীবিত কি মৃত— এই সমস্ত আবশ্যকীয় বিবরণ পাঠাতে হতো।
প্রশ্ন ৫: উধো ও বুধোর মধ্যে মারামারির আসল কারণ কী ছিল?
উত্তর: উধো তার ভারি পোঁটলা বা বোঁচকার বোঝা নিজে না বয়ে বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে দিত। সেই ‘উধোর বোঝা বুধোর ঘাড়ে’ হওয়া নিয়েই তাদের মধ্যে প্রতিদিন ঝগড়া ও মারামারি হতো।
প্রশ্ন ৬: হিজি বিজ্ বিজ্ ঝোপের আড়ালে একা একা কেন হাসছিল?
উত্তর: হিজি বিজ্ বিজ্ নানা কাল্পনিক ও অসম্ভব পরিস্থিতির কথা ভেবে (যেমন: পৃথিবী চ্যাপ্টা হয়ে কাদা হলে মানুষের আছাড় খাওয়া, কুলপি ভেবে সাজিমাটি খাওয়া ইত্যাদি) আনন্দে হাত-পা ছুঁড়ে হাসছিল।
প্রশ্ন ৭: ব্যাকরণ শিং-এর মতে ছাগলরা কোন কোন জিনিস শক্ত বা শখ করে চিবিয়ে দ্যাখে?
উত্তর: মনে তেজ এলে তারা পেনসিল, রবার, বোতলের ছিপি, শুকনো জুতো কিংবা ক্যাম্বিসের ব্যাগ চিবিয়ে বা চেখে দেখে।
প্রশ্ন ৮: ছাগলরা কোন কোন খাবার একেবারেই খায় না বলে ব্যাকরণ শিং দাবি করে?
উত্তর: ব্যাকরণ শিং-এর মতে ছাগলরা টিকটিকি, বাঁধাই করা বই, খাট-পালং, টেবিল-চেয়ার, ছুরি-কাঁচি বা শিশি-বোতল ইত্যাদি খায় না।
প্রশ্ন ৯: ন্যাড়ামাথা লোকটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় গান দুটি কী কী ছিল?
উত্তর: দ্বিতীয় গানটি ছিল “অলিগলি চলি রাম, ফুটপাথে ধুমধাম, কালি দিয়ে চুনকাম” এবং তৃতীয় গানটি ছিল “নাইনিতালের নতুন আলু”।
প্রশ্ন ১০: মানহানির মোকদ্দমায় হুতোমপ্যাঁচাকে কে ও কী দিয়ে বাতাস করছিল?
উত্তর: হুতোমপ্যাঁচাকে একটি মস্ত ছুঁচো বিশ্রী ও নোংরা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছিল।
প্রশ্ন ১১: বিচারসভায় হিজি বিজ্ বিজ্ নিজের নাম পরিবর্তনের কী নিয়ম জানিয়েছিল?
উত্তর: সে বলেছিল সকালে তার নাম থাকে ‘আলু নারকোল’, আর বিকেল হলে তার নাম হয়ে যায় ‘রামতাড়ু’।
প্রশ্ন ১২: কাক্কেশ্বর কাগেয়াপটি থেকে বাড়ির দূরত্বের মাপ কীভাবে হিসেব করেছিল?
উত্তর: ঘণ্টা হিসেবে ৪ আনা, মাইল হিসেবে ১০ পয়সা, নগদ দিলে ২ পয়সা ছাড়, যোগ করলে ১০ আনা, বিয়োগ করলে ৩ আনা, ভাগ করলে ৭ পয়সা এবং গুণ করলে ২১ টাকা!
প্রশ্ন ১৩: বিচারে আসামি কে ছিল এবং কেন সে আসামি হতে আপত্তি করেনি?
উত্তর: কোনো আসামি না থাকায় বোকা ন্যাড়াকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে আসামি হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছিল। ন্যাড়া ভেবেছিল আসামিরা বুঝি কোনো টাকা-পয়সা পাবে, তাই সে আপত্তি করেনি।
প্রশ্ন ১৪: কথক কীভাবে আবার বাস্তব জগতে ফিরে এলো?
উত্তর: ছাগলটির গুঁতো ও কান কামড়ে দেওয়ার পর কথকের ঘুম ভেঙে যায় এবং সে দেখে মেজোমামা তার কান ধরে বলছেন ব্যাকরণ না পড়ে সে ঘুমোচ্ছে!
প্রশ্ন ১৫: ঘুম ভাঙার পর কথক কোন দুটি অদ্ভুত মিল দেখতে পেয়েছিল?
উত্তর: কথক দেখে তার রুমালটি আর নেই এবং একটি বেড়াল বেড়া টপকে পালিয়ে যাচ্ছে, আর ঠিক সেই সময়েই একটি ছাগল ‘ব্যা’ করে ডেকে উঠল!
প্রশ্ন ১৬: তিব্বত যাওয়ার সিধে রাস্তাটি বেড়াল কীভাবে বর্ণনা করেছিল?
উত্তর: বেড়ালের মতে রাস্তাটি হলো— কলকেতা, ডায়মন্ড হারবার, রানাঘাট, তিব্বত।
প্রশ্ন ১৭: গাছের ফোকর থেকে নেমে আসা বুড়োটার হাতের হুঁকোটির বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
উত্তর: দেড় হাত লম্বা বুড়োটার হাতের হুঁকোটিতে কোনো কলকে-টলকে ছিল না।
প্রশ্ন ১৮: ‘উধোর বোঝা বুধোর ঘাড়ে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: উধো তার বস্তা বা প্রকাণ্ড বোঁচকার বোঝা নিজে না বইয়ে বুধোর ওপর চাপিয়ে দিত।
প্রশ্ন ১৯: ‘হযবরল’ গল্পে হাসতে হাসতে নাড়ি-ভুঁড়ি ফেটে যাওয়ার উপক্রম কার হয়েছিল?
উত্তর: হিজি বিজ্ বিজ্ নামক অদ্ভুত জন্তুটার।
প্রশ্ন ২০: বিচারসভায় কালো ঝোল্লা পরে বিচারকের আসনে কে বসেছিল?
উত্তর: বিচারকের আসনে বসেছিল একটি হুতোমপ্যাঁচা।
৩. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর (২ নম্বর)
প্রশ্ন ১: ব্যাকরণ শিং কীভাবে তার নাম ও উপাধির ব্যাখ্যা দিয়েছিল?
উত্তর: ব্যাকরণ শিং জানিয়েছিল, সে খুব চমৎকার ‘ব্যা’ করতে পারে বলে তার নাম ব্যাকরণ। মাথায় শিং আছে এবং ইংরিজিতে B.A. লিখলে তা ‘ব্যা’ শোনায়। কোন জিনিস খাওয়া যায় আর কোনটা যায় না তা নিজে পরীক্ষা করেছে বলে তার উপাধি ‘খাদ্যবিশারদ’।
প্রশ্ন ২: দাঁড়কাক সময়ের মাগ্যি হওয়ার বিষয়ে কী বলেছিল?
উত্তর: দাঁড়কাক বলেছিল, তাদের বাজারে সময় ভয়ানক মাগ্যি, একটুও বাজে খরচ করার জো নেই। সে কদিন চুরিচামারি করে যেটুকু সময় জমিয়েছিল, কথকের সঙ্গে তর্ক করতেই তার অর্ধেক খরচ হয়ে গিয়েছিল।
প্রশ্ন ৪: ব্যাকরণ শিং ছাগলদের খাওয়াদাওয়া সম্পর্কে কী তথ্য দিয়েছিল?
উত্তর: সে বলেছিল ছাগলেরা টিকটিকি, খাট-পালং বা ছুরি-কাঁচি খায় না। তবে তারা শখ করে বা তেজের মুখে ঠোঙা, নারকেলের ছোবড়া, মাসিক পত্রিকা, পেনসিল, রবার, জুতো বা তোশক-বালিশ চিবিয়ে দেখে।
প্রশ্ন ৫: কথকের ঘুম ভাঙার পর মেজোমামা তাকে কী বলেছিলেন এবং কথক বাস্তবে কী দেখতে পায়?
উত্তর: ঘুম ভাঙার পর মেজোমামা তার কান ধরে বলছিলেন, “ব্যাকরণ শিখবার নাম করে বুঝি পড়ে-পড়ে ঘুমোনো হচ্ছে?”। কথক চোখ খুলে দ্যাখে তার রুমালটি নেই, বেড়ার ওপর থেকে একটি বেড়াল পালিয়ে যাচ্ছে এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি ছাগল ‘ব্যা’ করে ডেকে উঠল।