নাটক বা থিয়েটার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা

কোনো ঘটনাকে যারা দেখবেন তাদেরকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে দেখানোই হল নাটক। যারা দেখেন তাদেরকে আমরা বলি দর্শক আর যারা দেখান তারা হলেন অভিনেতা-অভিনেত্রী। তারা যেটি করেন সেটি হল অভিনয়। একটা নাটক প্রদর্শন করতে এক বা অনেক মানুষ লাগে। তারা নানা কাজ করে —

১. অভিনয়

আমরা গল্প পড়ি, কবিতা পড়ি, উপন্যাস পড়ি, কিন্তু আমরা মূলত নাটক দেখি। লেখা নাটকের চরিত্রগুলিকে দর্শকের কাছে নিয়ে যান একদল মানুষ। এদেরকে আমরা বলি অভিনেতা-অভিনেত্রী। এরা নাটকের চরিত্রগুলিকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে দর্শকদের কাছে নিয়ে যান। যারা দেখেন তারা ভুলেই যান এরা অভিনয় করছে।

যখন এইসব মানুষগুলি হারিয়ে গিয়ে চরিত্রগুলি দর্শকদের কাছে সত্যি হয়ে দেখা দেয়, দর্শক যখন সত্যি সত্যি তাদের দেখানো চরিত্রকে বিশ্বাস করা শুরু করেন, তখন সেটিই হল অভিনেতা-অভিনেত্রীর সর্বোচ্চ পাওয়া।

২. মঞ্চ

অভিনয় হলে তো শুধু হবে না, নাটকের ঘটনা যেখানে হচ্ছে, সেই জায়গা দেখানোর দরকার পড়ে। যেমন ধরা যাক, যদি গ্রামের পরিবেশ দেখানোর দরকার হয় তাহলে—একটা-দুটো গাছ, কুঁড়ে ঘরের একটা আদল বানিয়ে দেখানো হয়, শহর হলে ল্যাম্পপোস্ট, ডাস্টবিনের আদল দেখানো হয়।
​অবশ্য এখন ছোটো ছোটো জায়গায়, পথে, কোনো ধরনের মঞ্চ উপকরণ ছাড়াই থিয়েটার হচ্ছে সারা পৃথিবীতে।

৩. আবহসংগীত

​মঞ্চে আবহসংগীতের একটা বড়ো ভূমিকা আছে। একদল মানুষ অনেক সময় গান করে নাটকের সূত্র ধরিয়ে দিয়ে যান। এখন বাইরে থেকে নানা শব্দ প্রক্ষেপণ করে, নাটকের সময়, পরিস্থিতি, স্থান বোঝানো হয়। যেমন—নদীর কলতান, ভোরের পাখির আওয়াজ, শহরের যানবাহনের শব্দ আরও অনেক অনেক শব্দ। সংগীত নাটককে সমৃদ্ধ করে।

৪. আলো

একটি নাটকে আলোর ভূমিকা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, আলো দিয়ে দিন-রাত, নানা পরিস্থিতি বোঝানো হয়। তবে আলোর একবারে প্রাথমিক কাজ হল যারা মঞ্চে অভিনয় করছেন তাদেরকে দর্শকদের দেখানো। নাটক, যাত্রা বেশিরভাগ সময়ই রাত্রে হয় বলে এক্ষেত্রে আলোর ভূমিকা অপরিসীম।

৫. নির্দেশনা

নাটকের সবচেয়ে বড়ো ভূমিকা বোধ হয় তার, যিনি পুরো বিষয়টি পরিকল্পনা করেন। তাকে আমরা নির্দেশক বলি আর ইংরেজিতে বলি ডিরেক্টর। ইনি নাটক বাছাই করেন, কেমন মঞ্চ হবে, আবহ কেমন হবে, আলো কেমন হবে, তা পরিকল্পনা করেন। তিনি অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পথ নির্দেশ করেন। বলা যায় পুরো বিষয়টা তিনি চিন্তাভাবনা করে ঠিক করেন।

৬. নাটকের চরিত্র :

সাধারণত নাটককার যখন নাটক লেখেন তখন তিনি একটা গল্প বলেন। একটা গল্পে যেমন নানা চরিত্র থাকে নাটকেও তেমন নানা চরিত্র থাকে। আমরা যখন গল্প পড়ি, তখন চরিত্রগুলি আমরা কল্পনায় দেখতে পাই। আর নাটকের ক্ষেত্রে তাদের মঞ্চে দেখতে পাই। যেমন ‘ডাকঘর’ নাটকের অমল বা ‘রক্তকরবী’ নাটকে নন্দিনী। এইসব চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলেন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। এর জন্য তাদের প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়, অনেক বিনিদ্র রাত যে তাদের কাটাতে হয়।

আবার চরিত্র যে শুধুমাত্র মানুষই হবে তার কোনো মানে নেই। অনেক সময় কোনো নাটকে গাছ, জীবজন্তু, চরিত্র হয়, তারা মানুষের মতো কথা বলে। একটি নাটকের চরিত্ররা যে কথা বলে তাকে বলা হয় সংলাপ, এই সংলাপ কে, কীভাবে বলবে তার উপর নির্ভর করে কে কত বড়ো অভিনেতা-অভিনেত্রী।

নাটকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এই সংলাপ বলা। সংলাপ বলার সময় একজন অভিনেতা-অভিনেত্রীকে অনেক কিছু মাথায় রাখতে হয়! যে চরিত্রটি তাকে করতে হয় তার বয়স, কেন, কোথায়, কখন, কোন্ পরিস্থিতিতে সংলাপটি বলছেন সব ভাবতে হয়, নির্দেশকই তাকে পথ দেখান। সংলাপ বলার মাধ্যমে তারা চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে দর্শকের সামনে ফুটিয়ে তোলেন।

মেদাধিক্য সম্পর্কে কিছু বিবরণ

Leave a Comment