আদিম যুগে মানুষকে খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পায়ে হেঁটে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হতো। সেই সময় মানুষ যন্ত্র বা পশুর ব্যবহার জানত না। তারা বিভিন্ন জিনিস মাথায় ও পিঠে করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহন করত। ক্রমে তারা এই কাজে পশুর ব্যবহার করতে শিখল। চাকা আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থাও পালটাতে লাগল। প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতায় এর নিদর্শন পাওয়া যায়। সুমেরীয় সভ্যতায় (৩০০০ – ২৮০০ খ্রি. পূর্বাব্দে) গরুর গাড়ি ও পরবর্তীকালে ঘোড়ায় টানা রথের ব্যবহার দেখা যায়।
গরুর গাড়ি ও রথ প্রভৃতি যানের ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে উন্নত রাস্তার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। ফলে ক্রমে পাথরের রাস্তা তৈরি হলো। বহু বছর ধরে আবিষ্কার ও যানবাহনের ক্রমোন্নতির পথ ধরে এল মোটরগাড়ি। গতির হাত ধরল পরিবহন ব্যবস্থা। মোটরগাড়ির জন্য প্রথম পিচের রাস্তা তৈরি হয় ১৯০২ সালে মোনাকো দেশের মন্টেকার্লোতে। দিন পালটেছে, মানুষের প্রয়োজনে যানবাহনের যেমন উন্নতি হয়েছে, তেমনি রাস্তায় তাদের সংখ্যা ও গতিও অনেক বেড়েছে। পরিবহন ব্যবস্থার প্রসার ঘটেছে স্থলপথ থেকে জলপথ, এমনকি আকাশপথেও। সুতরাং, বাস্তবিকভাবে প্রয়োজন হয়ে পড়েছে ট্রাফিক সচেতনতার
সূচীপত্র
রাস্তা ব্যবহারের নিয়মাবলি
(ক) যেখানে ফুটপাথ আছে সেখানে অবশ্যই ফুটপাথ ব্যবহার করা উচিত।
(খ) যেখানে ফুটপাথ নেই সেখানে রাস্তার ডানদিক দিয়ে হাঁটাই নিয়ম। এতে উল্টোদিকে থেকে আগত গাড়িগুলি দেখা যায়।
(গ) রাস্তায় শিশুদের নিয়ে হাঁটার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। ফুটপাথে হাঁটার সময় তাদের হাত ধরে রাখতে হবে এবং এমনভাবে হাঁটতে হবে যাতে শিশুরা যানবাহন থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকে।
রাস্তা পার হতে গেলে আমাদের রাস্তা পার হওয়ার নিয়ম জানা উচিত সেগুলি নিচে আলোচনা করা হলো
রাস্তা পার হতে হলে কী করতে হবে
(ক) যেখানে রাস্তা পার হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট পথরেখা – জেব্রা ক্রসিং, সাবওয়ে, ফুটব্রিজ, ওভারব্রিজ আছে সেখানে সেগুলি ব্যবহার করা অবশ্য কর্তব্য।
(খ) যেসমস্ত রাস্তার সংযোগস্থল ট্রাফিক পুলিশ বা পরিযান আলো (Traffic Signal) -র সংকেত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, সেখানে রাস্তা পার হওয়ার আগে সংকেতের দিকে লক্ষ রাখতে হবে।
(গ) যেখানে উপরিক্ত ব্যবস্থা নেই সেখানে কার্ব ড্রিল করে রাস্তা পার হতে হবে। প্রথমে ডানদিকে, তারপর বাঁদিকে, তারপর আবার ডানদিকে ও সামনে দেখে নিরাপদ মনে হলে তারপর কেবল মাত্র, রাস্তা পার হতে হবে।
(ঘ) চলমান গাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্বে রেখে রাস্তা পার হতে হবে।
(ঙ) পিচ্ছিল রাস্তা অত্যন্ত বিপজ্জনক, কাজেই বৃষ্টির দিনে খুব সতর্কতার সঙ্গে রাস্তা পার হতে হবে।
পথচারীদের রাস্তায় চলার সময় কী কী করা যাবে না :
(ক) গাড়িগুলি যেদিক হেকে আসছে সেদিকে পিছন ফিরে হাঁটা উচিত নয়।
(খ) জনবহুল রাস্তায় হাত ধরাধরি করে বা দোলবদ্ধভাবে হাঁটা উচিত নয়। এতে গাড়ি চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয় এবং দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে।
(গ) রাস্তায় চলাফেরা করার সময় অন্যমনস্ক হওয়া উচিত নয়। তাই রাস্তায় চলার সময় রাস্তার ধারের হোর্দিং বা দোকানের দিকে লক্ষ্য করতে করতে চলা, মোবাইল ফোনে কথা বলা, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে করতে রাস্তা চলা উচিত নয়।
(ঘ) গাড়ি চলাচলের প্রধান রাস্তায় কখনোই হাঁটা উচিত নয়।
(ঙ) রাস্তার বিভাজিকার উপর দাঁড়িয়ে থাকা ও কথা বলা উচিত নয়, হাঁটাও অনুচিত এবং আইনগত অপরাধ।
(চ) রাস্তায় শিশুদের নিয়ে হাঁটার সময় তাদের নিরাপত্তার জন্য হাত ছেড়ে হাঁটা অনুচিত।
(ছ) গাড়ি চলাচল করছে এমন অবস্থায় রাস্তা পার হওয়া উচিত নয়।
(জ) রাস্তায় কোনো থেমে থাকা গাড়ি বা অন্য কিছু দৃষ্টিপথকে আড়াল করে রাখে এমন জায়গা দিয়ে রাস্তা পার হওয়া উচিত নয়।
(ঝ) বাঁকের মুখে রাস্তা পার হওয়া উচিত নয়।
(ঞ) রাস্তায় খেলা করা অনুচিত।
(ট) রাস্তা পার হওয়ার সময় দৌড়ানো উচিত নয়, রাস্তায় ছোটাছুটি করাও অনুচিত।
যাত্রীদের যেসব নিয়ম পালন করতে হবে
(ক) চলন্ত যানবাহনের বসার আসনে সঠিকভাবে বসা উচিত।
(খ) গাড়ির চালক গাড়ি থামাবার জন্য নির্দিষ্ট স্থানে পৌছে গাড়ি সম্পুর্নরূপে থামালে তবেই গাড়ি থেকে নামা-ওঠা করা উচিত।
(গ) বাস ধরার জন্য বা টাক্সি ধরার জন্য নির্দিষ্ট স্থানে অপেক্ষা করা উচিত। বাসস্টপে বাস দাঁড়ালে আগে বাসের আরোহীদের নেমে যেতে দিয়ে সারিবদ্ধভাবে শৃঙ্খলা মেনে বসে ওঠা উচিত।
যাত্রীদের যেসব জিনিস করা উচিত নয়
(ক) চলন্ত বাসের ফুটবোর্ডে দাঁড়িয়ে থাকা একেবারেই উচিত নয়। এক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ঘটারসম্ভবনা থাকে ।
(খ) চলন্ত গাড়িতে ওঠা-নামা করা উচিত নয়।
(গ) বাস ধরার জন্য বা ট্যাক্সি ধরার জন্য বড় রাস্তায় নেমে পড়া উচিত নয়।
(ঘ) বসে ওঠা-নামার সময় অযথা হুড়োহুডি করা অনুচিত।