১৯৫০ সালে প্লাস্টিক তৈরির ব্যবহার ব্যাপকভাবে শুরু হওয়ার পর থেকেই প্লাস্টিকের বিভিন্নরকম ব্যবহার মানুষের ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক, তবুও প্যাকেজিং নির্মাণ ক্ষেত্রে, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, যানবাহন, গৃহস্থালি, চিকিৎসা ক্ষেত্রের মতো সর্বক্ষেত্রে আজ প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার প্রতি বছর সারা বিশ্বে ৫০ হাজার কোটির বেশি প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার হয়।
ভারতবর্ষের কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের ২০১৯ সালের রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে শুধুমাত্র কলকাতায় প্রতিদিন ৩৬৭০ টন কঠিন বর্জ্য উৎপাদন হয়। এর মধ্যে ৪২৫.৭২ টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদন হয়। এই প্লাস্টিকের বেশির ভাগটাই একবার ব্যবহারযোগ্য।
প্রকৃতির সঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্যের মিশে যেতে সময় লাগে ৪০০ থেকে এক হাজার বছর। তাই প্লাস্টিক আমাদের স্বাস্থ্য ও সভ্যতার পক্ষেও ক্ষতিকর।
প্লাস্টিক বর্জ্য আমাদের কী কী ক্ষতি করে :
(১) মাটিতে জমা হওয়ার ফলে মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়।
(২) ভূ-অভ্যন্তরে জল প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে।
(৩) জলাশয়, নিকাশি নালা বা খালের ও নদীর প্লাস্টিক জমে নিকাশি ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই জল জমে যায়।
(৪) প্রতিবছর আনুমানিক ৮০ লক্ষ টন প্লাস্টিক বর্জ্য পৃথিবীর সমস্ত সমুদ্রে জমা হয়।
(৫) সামুদ্রিক প্রাণী ও পাখিরা খাবার ভেবে প্লাস্টিক খেয়ে ফেলে মারা যায়।
(৬) প্লাস্টিক সমুদ্রতলদেশের জীব বৈচিত্র্য নষ্ট করছে।
(৭) প্লাস্টিক জড়িয়ে মারা যায় বহু প্রাণী।
(৮) প্লাস্টিক পোড়ানোর ফলে সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড সহ বিভিন্ন ক্ষতিকারক রাসায়নিক বাতাসের সঙ্গে মিশে গিয়ে মারাত্মকভাবে বায়ুকে দূষিত করে।
(৯) প্লাস্টিক দূষণ হৃদরোগ, হাঁপানি, শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি স্নায়ুতন্ত্র, কিডনি ও লিভারের ক্ষতি করে এবং প্রজনন ক্ষমতাও হ্রাস পায়।
ছাত্রছাত্রীদের করণীয় :
(১) প্লাস্টিক ব্যাগের পরিবর্তে চটের ব্যাগ, কাপড়ের ব্যাগ, কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করা এবং প্লাস্টিক বর্জ্য কখনও মুক্ত পরিবেশে ফেলবে না।
(২) প্লাস্টিক ব্যবহার বর্জন করা ও প্লাস্টিক ব্যবহার কমিয়ে শূন্যে আনতে হবে।
(৩) প্লাস্টিককে ব্যবহার করতে বাধ্য হলে তাকে পুনঃপুনঃ ব্যবহার করতে হবে।
(৪) প্লাস্টিক ব্যবহার করতে নিতান্ত বাধ্য হলে পুনর্ব্যবহার্য প্লাস্টিক একমাত্র ব্যবহার করতে হবে।
(৫) একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
(৬) প্লাস্টিক সামগ্রী পোড়ানো আমাদের পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকর। এ বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।
(৭) বিয়ে বা অনুষ্ঠান বাড়ি, অফিস, স্কুল, পর্যটন কেন্দ্র, পাহাড়, নদনদী, সমুদ্র, জনবসতি সর্বত্র প্লাস্টিক মুক্ত করতে হবে এবং প্লাস্টিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে 4R (Reuse, Refuse, Recycle & Reduce) এর নীতির প্রয়োগ মেনে চলতে হবে। তেমনি থার্মোকলের ব্যবহারেও সতর্ক থাকতে হবে।