শরীর ও মনকে সুস্থ-সবল, সুগঠিত ও কর্মক্ষম এবং ব্যাধির হাত থেকে সুরক্ষিত করে রাখার নামই হল স্বাস্থ্য। আর এই স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য আমাদের প্রয়োজন শক্তি। জীবদেহের এই শক্তির উৎস মূলত খাদ্য। এছাড়াও জীবদেহের সুস্থ বিকাশের জন্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রয়োজন বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ লবণ ও জলের মতো বেশ কিছু পরিপোষক বা পুষ্টি উপাদানের।
এই সকল খাদ্য ও পরিপোষক জীবদেহে যথাযথ মাত্রায়, নিয়মিতভাবে সরবরাহিত হলে তবেই জীবদেহের গঠন, ক্ষমতাবৃদ্ধি ও বৃদ্ধি সম্পন্ন হয় এবং সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে। এই প্রক্রিয়াকে এক কথায় পুষ্টি বলে। তাই সঠিক পরিমাপে পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
খাদ্য কী :
যে সকল কঠিন, তরল বা অর্ধ তরল আহার্য বস্তু দেহের প্রয়োজনীয় ক্যালোরির শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা বা তাপনমূল্য বা ফুড-ভ্যালু আছে তাদের খাদ্য বলে। যেমন—কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা, প্রোটিন বা আমিষ এবং ফ্যাট বা চর্বি জাতীয় খাদ্য।
খাদ্যের কাজ কী :
শরীরের কার্যশক্তি যোগান দিয়ে শরীরকে কর্মক্ষম করে তোলে। কলা-কোষ গড়ে তুলতে ও তাদের মেরামতে সাহায্য করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। শারীরবৃত্তীয় কার্যগুলি সম্পাদনের জন্য যে ন্যূনতম শক্তির প্রয়োজন তা খাদ্য যোগান দেয়।
সুষম খাদ্য কী :
যে সকল আহার্য সামগ্রীতে খাদ্য উপাদানের সব কয়টি উপাদান অর্থাৎ কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও জল যথোপযুক্ত পরিমাণে থাকে তাকে সুষম খাদ্য বলে।
স্বাস্থ্যকর খাদ্য :
যে সকল খাদ্য মানবদেহে পুষ্টির যোগান দেয় এবং স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে, সেই সকল খাদ্যকে স্বাস্থ্যকর খাদ্য বলে।
পুষ্টি কাকে বলে :
যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জীবদেহে প্রয়োজনীয় উপাদান ও শক্তি অর্জিত হয়ে জীবদেহের সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটে তাকে পুষ্টি বলে।
পরিপোষক কাকে বলে?
আহার্য সামগ্রী থেকে যে সকল উপাদান গুলি নিয়ে জীব পুষ্টি সাধন করে তাকে পরিপোষক বলে। সকল খাদ্যই পরিপোষক, কিন্তু সকল পরিপোষক খাদ্য নয়।
পুষ্টির কয়টি পরিপোষক ও কী কী?
পুষ্টির ছয়টি পরিপোষক। যথা (১) কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা (২) প্রোটিন বা আমিষ (৩) ফ্যাট বা চর্বি বা স্নেহপদার্থ (৪) ভিটামিন (৫) খনিজ লবণ (৬) জল
অপুষ্টি কাকে বলে?
অপুষ্টি: খাদ্য এক বা একাধিক অভাবজনিত রোগকে অপুষ্টি বলে।
উনপুষ্টি: ভুল বা অনিয়মিত খাদ্য গ্রহনের ফলে পরিপোষকের মাত্রা যথাযথ না হয়ে কমবা বেশি হয়, তখন যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে উনপুষ্টি বলে।
বিভিন্ন প্রকার পরিপোষক, পুষ্টিতে তাদের ভূমিকা ও সেগুলি কিভাবে লভ্য:
| পরিপোষক | পুষ্টিতে তাদের ভূমিকা | কীসে লভ্য |
|---|---|---|
| (১) কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা | দেহকে শক্তি যোগান দেয় | তন্ডুল জাতীয় শস্য (চাল, আটা ইত্যাদি), সাগু, জোয়ার, আলু |
| (২) প্রোটিন | দেহের কোষ, পেশি ও রক্ত প্রভৃতি দেহরস তৈরী ও পূরণ করে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের উপযোগী এনজাইম এবং অ্যান্টিবডি তৈরিতে সাহায্য করে। | তাজা বা গুড়ো দুধ, পনির, দই, সয়াবিনডাল, মাংস, মাছ, ডিম ইত্যাদি |
| (৩) ফ্যাট বা চর্বি | শক্তির উত্স হিসাবে অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাট অ্যাসিড যোগায় এবং শরীরে ভিটামিন এ,ডি,ই এবং কে যোগায় | মাখন, ঘি, বনস্পতি তেল ও চর্বি, তৈলবীজ এবং বাদাম, সয়াবিন ও ডিমের কুসুম |
| (৪) ভিটামিন এ | গায়ের চামড়া, চোখ ও শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি সুস্থ রাখা এবং স্বল্প আলোতেও চোখের দৃষ্টি বজায় রাখা | মাছের যকৃতের তেল, যকৃত, দুধ, দি, মাখন, ঘি, হলুদ এবং লাল বর্ণের ফল, সবুজ শাকপাতা ও হলদে শাকসব্জি |
| (৫) ভিটামিন সি | স্বাস্থ্যকর মাড়ির জন্য এবং দেহকোষগুলোকে সংযুক্ত রাখা, সংক্রমণ প্রতিরোধের শক্তি দেওয়া প্রভিতির জন্য | আমলকি, পেয়ারা, কমলা, মোসাম্বী প্রভিতি সর্বপ্রকারের লেবু, টাটকা শাকসবজি ইত্যাদি |
| (৬) ভিটামিন ডি | শরীরকে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস নিয়ন্ত্রণ ও গ্রহণে এবং সুদৃঢ় দাঁত ও হাড় তৈরিতে সাহায্য করে | ত্বকে সূর্যের আলো, মাখন, পনির, ঘি, ডিমের কুসুম ও দুধ, কড মাছের যকৃতের তেল , বাঁধাকপি |
| (৭) লৌহ উপাদান | হিমোগ্লোবিন তৈরী করার জন্য প্রোটিনের সঙ্গে প্রয়োজন হয়। হিমোগ্লোবিন হল রক্তের লাল কনিকা কোষগুলিতে অক্সিজেন পৌছে দেয় | থোড়,মোচা, ডুমুর, কুলেখাড়া শাক, চর্বিহীন লাল মাংস, খেজুর, কাঁচকলা, রাজমা ইত্যাদি |